বাংলাদেশ ১১:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
fa fa-square রূপগঞ্জে হোটেল মালিককে কুপিয়ে জখম fa fa-square ধর্মপাশায় পাইকুরাটি ইউনিয়ন বিএনপির দ্বী- বার্ষিক সম্মেলনে সভাপতি মোহাম্মাদ আলী, সাধারণ সম্পাদক জিয়া উদ্দিন জিয়া  fa fa-square ধর্মপাশায় ২ কোটি টাকার মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স অযত্নে, বঞ্চিত বীর মুক্তিযোদ্ধারা fa fa-square ফেরত এলো হাওড়ের ফসল রক্ষা বাঁধের ২,৬৪৪ ব্লক fa fa-square গোয়াইনঘাটে বিছনাকান্দি ইউপিতে সেবা পেতে ভোগান্তির অভিযোগ প্রশাসনিক কর্মকর্তার দেরিতে উপস্থিতি ও কর্মচারীর দুর্ব্যবহারের অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস ইউএনওর fa fa-square ধর্মপাশায় অতর্কিত হামলা ও মালামাল লুট  fa fa-square মদনে ছেলের দায়ের কোপে বাবা নিহত, অভিযুক্ত আটক ​মদন (পলাশ পাল, নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি) নেত্রকোনার মদন উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে ছেলের দায়ের কোপে মো. আলাই মিয়া (৬৫) নামে এক কৃষক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ছেলে মো. ইয়াছিন মিয়াকে (২০) আটক করেছে পুলিশ। ​আজ ৯ সেপ্টেম্বর বুধবার সকাল আনুমানিক ৭.৩০এর দিকে মদন উপজেলার আশকিপাড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত আলাই মিয়া ওই গ্রামেরই মৃত কুন্ডু মিয়ার ছেলে। ​পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইয়াছিন মিয়া দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন এবং কয়েক দিন ধরে তিনি তীব্র হতাশাগ্রস্ত ছিলেন। পারিবারিক নানা টানাপোড়েনের কারণে গত প্রায় দুই দিন ধরে তিনি খাওয়াদাওয়া বন্ধ রেখেছিলেন। বুধবার সকালে বাবা আলাই মিয়া তাঁকে খাবার খাওয়ার জন্য ডাকলে দুজনের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে বাবা ছেলেকে ধমক দিলে ছেলে ইয়াছিন ক্ষিপ্ত হয়ে ঘরে থাকা বঁটি দিয়ে আলাই মিয়ার ঘাড়ে ও শরীরে এলোপাতাড়ি কোপ দিতে থাকেন । ​আলাই মিয়ার চিৎকারে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে ইয়াছিনকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে খবর দেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় আলাই মিয়াকে উদ্ধার করে স্থানীয় মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহউদ্দিন করিম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্ত ইয়াছিন মিয়াকে আটক করে থানায় নিয়ে এসেছে। নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ​ওসি আরও জানান, ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং নিহত আলাই মিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে ইয়াছিন মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে fa fa-square ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার কথা বলে টাকা আদায়ের অভিযোগ, নেত্রকোনায় এনসিপি নেত্রী আটক fa fa-square নেত্রকোণা সরকারি কলেজে বিতর্ক উৎসব সম্পন্ন: ইংরেজি বিভাগকে হারিয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ চ্যাম্পিয়ন fa fa-square গভীর রাতে শিশু সন্তানকে সাথে নিয়েই সড়ক নির্মাণকাজ তদারকিতে নেত্রকোনার এডিবি লিজা, প্রশংসা সর্বমহলে

ধর্মপাশায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন যুবলীগ নেতার রমরমা রাজত্ব, নেপথ্যে কার ছত্রছায়া? কলেজের ভবন নির্মাণ কাজে অনিয়ম!

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:২৮:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬
  • ১১৯ Time View

 

ধর্মপাশা উপজেলা, মোঃ আবুল কালাম প্রতিনিধি:

২০২৪সালের ৫আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে দেশ পট পরিবর্তন ঘটলেও সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় তেমন কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে পুলিশ ও বিএনপিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ঠিকাদারি রমরমা ব্যবসা চালিয়ে আসছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন যুবলীগের এক নেতা। তাঁর নাম মাঈন উদ্দিন (৪৫)। তিনি সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলা যুবলীগের সহসভাপতি পদে রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে সুনামগঞ্জ-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতনকে মোটা অংকের টাকা উৎকোচ দিয়ে এবং এলজিইডি,শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে এবং প্রভাব খাটিয়ো বিভিন্ন ঠিকাদারি কাজ হাতিয়ে নিতেন। ক্ষমতার পালাবদল হলেও তিনি সেই আগের মতোই রয়েছেন। অবৈধ পন্থায় মাত্র কয়েকবছরের ব্যবধানে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন তিনি। ভবন ও সেতু নির্মাণ কাজে নিম্ন মানের ইট,বালু,পাথর ও রড ব্যবহার করে কাজ সম্পন্ন
করলেও অদৃশ্য ছায়ায় তিনি অনিয়ম করেও পার পেয়ে গেছেন। এখনো তিনি সেই অনিয়মের ধারাবাহিকায় ঠিকদারি কাজ চালাচ্ছেন। কখনো নিজের নামে আবার কখনো ধার করা লাইসেন্স এনে কাজ করছেন। তিনি যে অনেকটাই আইনের উর্ধ্বে। আইন কানুনের তোয়াক্কা না করে সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় কলেজ ভবন নির্মাণ, হাইস্কুলর ভবন ও সেতু নির্মাণসহ নানাবিদ কাজ এখনো চলমান রয়েছে। সারা বাংলাদেশে বর্তমানে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে। এসব সংগঠনের পদবীধারী প্রভাবশালী নেতা-কর্মীরা এখনো আত্মগোপনে আছেন, কেউ কেউ আইনের আওতায় এসে জেল খেটেছেন এবং জেলে রয়েছেন। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম দৃশ্য দেখা যাচ্ছে ধর্মপাশা উপজেলা সদরে। আওয়ামী যুবলীগের ধর্মপাশা উপজেলা শাখার প্রভাবশালী সহ-সভাপতি ও ঠিকাদার মাঈন উদ্দিনের বেপরোয়া আচরণ ও ক্ষমতার চর্চা সাধারণ মানুষকে অবাক ও ক্ষুব্ধ করে তুলছে। যেখানে দলের অন্যান্যরা আত্মগোপনে, সেখানে মাঈন উদ্দিন কিভাবে প্রকাশ্যে দাপট দেখিয়ে চলছেন, তা নিয়ে উঠছে গভীর প্রশ্ন উঠেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ধর্মপাশা সরকারি ডিগ্রি কলেজের নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণকাজে রাজনৈতিক ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের ধর্মপাশা উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি ঠিকাদার মো. মাঈন উদ্দিন রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে এবং একটি প্রভাবশালী মহলের গোপন সমর্থনে প্রশাসন, থানা পুলিশ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দদেরকে তোয়াক্কা না করেই তিনি এই অনিয়মের রাজত্ব চালিয়ে যাচ্ছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভবনের বিভিন্ন কাজে প্রচলিত মানসম্পন্ন পাথরের পরিবর্তে পুরোনো ব্লকজাতীয় পাথর ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি নির্মাণকাজে ব্যবহৃত বালু নিয়েও রয়েছে গুরুতর প্রশ্ন। ভবনের দেয়ালে আস্তরণ, ইটের গাঁথুনি এবং ফ্লোরের বিভিন্ন কাজে নিম্নমানের ও অগ্রহণযোগ্য বালু ব্যবহার করা হচ্ছে। এ ছাড়া, ভবন নির্মাণে ব্যবহৃত ইটের একটি বড় অংশই নিম্নমানের। নির্মাণস্থলের ঠিক পাশেই ইট ভেঙে পাথরের মতো ছোট টুকরো করে স্তূপ করে রাখতে দেখা গেছে, যা পরবর্তীতে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নির্মাণকাজে নিয়োজিত এক কর্মচারী ভিডিওতে জানান, “আমি কয়েক মাস ধরে এসব মালামাল দিয়েই কাজ করে আসছি। মালামাল পরিবর্তন হতে দেখিনি। এখানে ভালো না খারাপ কাজ হচ্ছে, সেটা আমরা বুঝি না।
সাইট ম্যানেজারের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, এসব কাজ ঠিকাদার মাঈন উদ্দিনের এবং এ বিষয়ে তিনিই ভালো বলতে পারবেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত ঠিকাদার মাঈন উদ্দিন যুবলীগের রাজনীতির সাথে সরাসরি যুক্ত এবং তাঁর একটি পদ-পদবীও রয়েছে। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পরও তিনি কীভাবে এবং কার ছত্রছায়ায় বর্তমান সময়ে বীরদর্পে এমন নিম্নমানের কাজ করে বেড়াচ্ছেন—তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন উঠেছে। ফ্যাসিস্ট সরকারের সুবিধাভোগী এই ঠিকাদারকে নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহল বা প্রশাসনের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।
অভিযুক্ত ফ্যাসিস্ট সরকারের সুবিধাভোগী উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সহ সভাপতি ঠিকাদার মাঈন উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি উল্টো নির্মাণস্থলে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার ও পরিদর্শন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং হুমকি দিয়ে বলেন, “আমার সাইটে ভিজিট করার অনুমতি কোথায় পেলেন? আমার সাইটে কোনো সাংবাদিক যাওয়ার সাহস পায় না। তিনি দাবি করেন, তিনি সব কাজ ঠিকঠাক ভাবেই করছেন। শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগ তাঁর বিষয়ে বাইরে কথা বলবে না এবং তাঁর একাধিক সরকারি কাজ চলমান রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, কাজের মান খুবই নিম্নমানের মনে হয়েছে। বালু, পাথর ও ইট—সবকিছু নিয়েই প্রশ্ন রয়েছে। সরকারি অর্থে এমন ভবন নির্মাণ হলে ভবিষ্যতে এর স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা থেকেই যায়।”
স্থানীয়দের মতে, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবনে নির্মাণসামগ্রীর মান নিয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। অথচ রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিষিদ্ধ
আওয়ামী লীগের যুবলীগের সহ সভাপতি এই প্রভাবশালী ঠিকাদার হরিলুট চালিয়ে যাচ্ছেন।

কলেজের অধ্যক্ষ কৃষ্ণ কান্ত বিশ্বাস জানান, ভবন নির্মাণের গুণগত মান যাচাইয়ের মূল দায়িত্ব প্রকৌশলীদের ওপর ছিল। তাঁর ভাষ্যমতে, সহকারী সহকারী প্রকৌশলী সৈয়দ তারেক জহিরুল হক ও মুহাম্মদ পারভেজ ইষেন মালামাল পরিদর্শনের পর তাঁকে সবকিছু ঠিক আছে বলে জানিয়ে আসছিলেন। অধ্যক্ষ আরও বলেন, ভবনের স্ট্রাকচার বা নকশাও আমাকে দেখানো হয়নি। তাহলে মালামালের গুণগত মান সম্পর্কে আমি কীভাবে জানব?
অভিযোগের বিষয়ে উপসহকারী প্রকৌশলীর দায়িত্বে থাকা মো. খাজা মাঈন উদ্দিন দাবি করেন, ভবন নির্মাণে ব্যবহৃত মালামাল নিয়মসম্মত রয়েছে। তবে নিম্নমানের ইটের বিষয়ে ঠিকাদারকে পরিবর্তন করতে বলা হয়েছে।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর সুনামগঞ্জ কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী সৈয়দ তারেক জহিরুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি শুরুতে কিছু ত্রুটির কথা স্বীকার করলেও পরবর্তীতে কাজের সবকিছু ঠিক আছে বলে দাবি করেন।
রাজনৈতিক প্রভাব বলয় ভেঙে সরকারি অর্থে বাস্তবায়নাধীন এই গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবনের নির্মাণকাজে অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তন সত্ত্বেও চিহ্নিত এক আওয়ামী যুবলীগ নেতা কীভাবে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে ও প্রশাসনকে তোয়াক্কা না করে বীরদর্পে নিম্নমানের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন—তা নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

রূপগঞ্জে হোটেল মালিককে কুপিয়ে জখম

ধর্মপাশায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন যুবলীগ নেতার রমরমা রাজত্ব, নেপথ্যে কার ছত্রছায়া? কলেজের ভবন নির্মাণ কাজে অনিয়ম!

Update Time : ১২:২৮:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

 

ধর্মপাশা উপজেলা, মোঃ আবুল কালাম প্রতিনিধি:

২০২৪সালের ৫আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে দেশ পট পরিবর্তন ঘটলেও সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় তেমন কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে পুলিশ ও বিএনপিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ঠিকাদারি রমরমা ব্যবসা চালিয়ে আসছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন যুবলীগের এক নেতা। তাঁর নাম মাঈন উদ্দিন (৪৫)। তিনি সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলা যুবলীগের সহসভাপতি পদে রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে সুনামগঞ্জ-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতনকে মোটা অংকের টাকা উৎকোচ দিয়ে এবং এলজিইডি,শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে এবং প্রভাব খাটিয়ো বিভিন্ন ঠিকাদারি কাজ হাতিয়ে নিতেন। ক্ষমতার পালাবদল হলেও তিনি সেই আগের মতোই রয়েছেন। অবৈধ পন্থায় মাত্র কয়েকবছরের ব্যবধানে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন তিনি। ভবন ও সেতু নির্মাণ কাজে নিম্ন মানের ইট,বালু,পাথর ও রড ব্যবহার করে কাজ সম্পন্ন
করলেও অদৃশ্য ছায়ায় তিনি অনিয়ম করেও পার পেয়ে গেছেন। এখনো তিনি সেই অনিয়মের ধারাবাহিকায় ঠিকদারি কাজ চালাচ্ছেন। কখনো নিজের নামে আবার কখনো ধার করা লাইসেন্স এনে কাজ করছেন। তিনি যে অনেকটাই আইনের উর্ধ্বে। আইন কানুনের তোয়াক্কা না করে সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় কলেজ ভবন নির্মাণ, হাইস্কুলর ভবন ও সেতু নির্মাণসহ নানাবিদ কাজ এখনো চলমান রয়েছে। সারা বাংলাদেশে বর্তমানে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে। এসব সংগঠনের পদবীধারী প্রভাবশালী নেতা-কর্মীরা এখনো আত্মগোপনে আছেন, কেউ কেউ আইনের আওতায় এসে জেল খেটেছেন এবং জেলে রয়েছেন। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম দৃশ্য দেখা যাচ্ছে ধর্মপাশা উপজেলা সদরে। আওয়ামী যুবলীগের ধর্মপাশা উপজেলা শাখার প্রভাবশালী সহ-সভাপতি ও ঠিকাদার মাঈন উদ্দিনের বেপরোয়া আচরণ ও ক্ষমতার চর্চা সাধারণ মানুষকে অবাক ও ক্ষুব্ধ করে তুলছে। যেখানে দলের অন্যান্যরা আত্মগোপনে, সেখানে মাঈন উদ্দিন কিভাবে প্রকাশ্যে দাপট দেখিয়ে চলছেন, তা নিয়ে উঠছে গভীর প্রশ্ন উঠেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ধর্মপাশা সরকারি ডিগ্রি কলেজের নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণকাজে রাজনৈতিক ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের ধর্মপাশা উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি ঠিকাদার মো. মাঈন উদ্দিন রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে এবং একটি প্রভাবশালী মহলের গোপন সমর্থনে প্রশাসন, থানা পুলিশ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দদেরকে তোয়াক্কা না করেই তিনি এই অনিয়মের রাজত্ব চালিয়ে যাচ্ছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভবনের বিভিন্ন কাজে প্রচলিত মানসম্পন্ন পাথরের পরিবর্তে পুরোনো ব্লকজাতীয় পাথর ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি নির্মাণকাজে ব্যবহৃত বালু নিয়েও রয়েছে গুরুতর প্রশ্ন। ভবনের দেয়ালে আস্তরণ, ইটের গাঁথুনি এবং ফ্লোরের বিভিন্ন কাজে নিম্নমানের ও অগ্রহণযোগ্য বালু ব্যবহার করা হচ্ছে। এ ছাড়া, ভবন নির্মাণে ব্যবহৃত ইটের একটি বড় অংশই নিম্নমানের। নির্মাণস্থলের ঠিক পাশেই ইট ভেঙে পাথরের মতো ছোট টুকরো করে স্তূপ করে রাখতে দেখা গেছে, যা পরবর্তীতে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নির্মাণকাজে নিয়োজিত এক কর্মচারী ভিডিওতে জানান, “আমি কয়েক মাস ধরে এসব মালামাল দিয়েই কাজ করে আসছি। মালামাল পরিবর্তন হতে দেখিনি। এখানে ভালো না খারাপ কাজ হচ্ছে, সেটা আমরা বুঝি না।
সাইট ম্যানেজারের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, এসব কাজ ঠিকাদার মাঈন উদ্দিনের এবং এ বিষয়ে তিনিই ভালো বলতে পারবেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত ঠিকাদার মাঈন উদ্দিন যুবলীগের রাজনীতির সাথে সরাসরি যুক্ত এবং তাঁর একটি পদ-পদবীও রয়েছে। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পরও তিনি কীভাবে এবং কার ছত্রছায়ায় বর্তমান সময়ে বীরদর্পে এমন নিম্নমানের কাজ করে বেড়াচ্ছেন—তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন উঠেছে। ফ্যাসিস্ট সরকারের সুবিধাভোগী এই ঠিকাদারকে নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহল বা প্রশাসনের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।
অভিযুক্ত ফ্যাসিস্ট সরকারের সুবিধাভোগী উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সহ সভাপতি ঠিকাদার মাঈন উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি উল্টো নির্মাণস্থলে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার ও পরিদর্শন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং হুমকি দিয়ে বলেন, “আমার সাইটে ভিজিট করার অনুমতি কোথায় পেলেন? আমার সাইটে কোনো সাংবাদিক যাওয়ার সাহস পায় না। তিনি দাবি করেন, তিনি সব কাজ ঠিকঠাক ভাবেই করছেন। শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগ তাঁর বিষয়ে বাইরে কথা বলবে না এবং তাঁর একাধিক সরকারি কাজ চলমান রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, কাজের মান খুবই নিম্নমানের মনে হয়েছে। বালু, পাথর ও ইট—সবকিছু নিয়েই প্রশ্ন রয়েছে। সরকারি অর্থে এমন ভবন নির্মাণ হলে ভবিষ্যতে এর স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা থেকেই যায়।”
স্থানীয়দের মতে, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবনে নির্মাণসামগ্রীর মান নিয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। অথচ রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিষিদ্ধ
আওয়ামী লীগের যুবলীগের সহ সভাপতি এই প্রভাবশালী ঠিকাদার হরিলুট চালিয়ে যাচ্ছেন।

কলেজের অধ্যক্ষ কৃষ্ণ কান্ত বিশ্বাস জানান, ভবন নির্মাণের গুণগত মান যাচাইয়ের মূল দায়িত্ব প্রকৌশলীদের ওপর ছিল। তাঁর ভাষ্যমতে, সহকারী সহকারী প্রকৌশলী সৈয়দ তারেক জহিরুল হক ও মুহাম্মদ পারভেজ ইষেন মালামাল পরিদর্শনের পর তাঁকে সবকিছু ঠিক আছে বলে জানিয়ে আসছিলেন। অধ্যক্ষ আরও বলেন, ভবনের স্ট্রাকচার বা নকশাও আমাকে দেখানো হয়নি। তাহলে মালামালের গুণগত মান সম্পর্কে আমি কীভাবে জানব?
অভিযোগের বিষয়ে উপসহকারী প্রকৌশলীর দায়িত্বে থাকা মো. খাজা মাঈন উদ্দিন দাবি করেন, ভবন নির্মাণে ব্যবহৃত মালামাল নিয়মসম্মত রয়েছে। তবে নিম্নমানের ইটের বিষয়ে ঠিকাদারকে পরিবর্তন করতে বলা হয়েছে।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর সুনামগঞ্জ কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী সৈয়দ তারেক জহিরুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি শুরুতে কিছু ত্রুটির কথা স্বীকার করলেও পরবর্তীতে কাজের সবকিছু ঠিক আছে বলে দাবি করেন।
রাজনৈতিক প্রভাব বলয় ভেঙে সরকারি অর্থে বাস্তবায়নাধীন এই গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবনের নির্মাণকাজে অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তন সত্ত্বেও চিহ্নিত এক আওয়ামী যুবলীগ নেতা কীভাবে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে ও প্রশাসনকে তোয়াক্কা না করে বীরদর্পে নিম্নমানের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন—তা নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।