বাংলাদেশ ০৯:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
fa fa-square ধর্মপাশায় অতর্কিত হামলা ও মালামাল লুট  fa fa-square মদনে ছেলের দায়ের কোপে বাবা নিহত, অভিযুক্ত আটক ​মদন (পলাশ পাল, নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি) নেত্রকোনার মদন উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে ছেলের দায়ের কোপে মো. আলাই মিয়া (৬৫) নামে এক কৃষক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ছেলে মো. ইয়াছিন মিয়াকে (২০) আটক করেছে পুলিশ। ​আজ ৯ সেপ্টেম্বর বুধবার সকাল আনুমানিক ৭.৩০এর দিকে মদন উপজেলার আশকিপাড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত আলাই মিয়া ওই গ্রামেরই মৃত কুন্ডু মিয়ার ছেলে। ​পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইয়াছিন মিয়া দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন এবং কয়েক দিন ধরে তিনি তীব্র হতাশাগ্রস্ত ছিলেন। পারিবারিক নানা টানাপোড়েনের কারণে গত প্রায় দুই দিন ধরে তিনি খাওয়াদাওয়া বন্ধ রেখেছিলেন। বুধবার সকালে বাবা আলাই মিয়া তাঁকে খাবার খাওয়ার জন্য ডাকলে দুজনের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে বাবা ছেলেকে ধমক দিলে ছেলে ইয়াছিন ক্ষিপ্ত হয়ে ঘরে থাকা বঁটি দিয়ে আলাই মিয়ার ঘাড়ে ও শরীরে এলোপাতাড়ি কোপ দিতে থাকেন । ​আলাই মিয়ার চিৎকারে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে ইয়াছিনকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে খবর দেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় আলাই মিয়াকে উদ্ধার করে স্থানীয় মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহউদ্দিন করিম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্ত ইয়াছিন মিয়াকে আটক করে থানায় নিয়ে এসেছে। নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ​ওসি আরও জানান, ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং নিহত আলাই মিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে ইয়াছিন মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে fa fa-square ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার কথা বলে টাকা আদায়ের অভিযোগ, নেত্রকোনায় এনসিপি নেত্রী আটক fa fa-square নেত্রকোণা সরকারি কলেজে বিতর্ক উৎসব সম্পন্ন: ইংরেজি বিভাগকে হারিয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ চ্যাম্পিয়ন fa fa-square গভীর রাতে শিশু সন্তানকে সাথে নিয়েই সড়ক নির্মাণকাজ তদারকিতে নেত্রকোনার এডিবি লিজা, প্রশংসা সর্বমহলে fa fa-square সীমান্তবর্তী দুর্গাপুরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অনন্য ভূমিকা: টানা ৩ বার শ্রেষ্ঠ ওসি খন্দকার শাকের fa fa-square ধর্মপাশায় পরিত্যক্ত কালিজানা ব্রিজ: ঝুঁকি নিয়ে পারাপার, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ, fa fa-square রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের ইসলামের প্রথম ঠাকুরগাঁও সফর fa fa-square তোয়াকুল ইউনিয়নে বিএনপির চেয়ারম্যান পদে জিয়া উদ্দিনকে দেখতে চান এলাকাবাসী fa fa-square জনগণের সঙ্গে ভাঁওতাবাজি-প্রতারণা করেছে সরকার: শফিকুর রহমান

নেত্রকোনায় জালিয়াতি করে লঘুদণ্ড: এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে বিচার কারসাজির অভিযোগ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:২১:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৪১ Time View

পলাশ পাল, নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে জমির ভুয়া নামজারি (খারিজ) কপি ও ডিসিআর রশিদ তৈরির মতো গুরুতর অপরাধে ওয়াদুদ মিয়া ওরফে বাবু (২৬) নামের এক যুবককে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। তবে জালিয়াতির সরাসরি প্রমাণ থাকার পরও মূল অপরাধ আড়াল করে ‘সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার’ হালকা ধারায় সাজা দেওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম এ কাদেরের ভূমিকা নিয়ে চরম বিতর্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
​সাজাপ্রাপ্ত ওয়াদুদ মিয়া মোহনগঞ্জ পৌরশহরের সাতুর এলাকার মৃত শাহজাহানের ছেলে। তিনি উপজেলা পরিষদ চত্বরে একটি কম্পিউটার দোকানের মাধ্যমে অনলাইনে বিভিন্ন সেবা দিতেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নাগডরা এলাকার বাসিন্দা মাহবুব মিয়া তার ৫ শতাংশ জমি নামজারির জন্য ওয়াদুদকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও টাকা দেন। চুক্তি অনুযায়ী ওয়াদুদ তাঁকে একটি প্রস্তুতকৃত নামজারি কপি ও ডিসিআর রশিদ বুঝিয়ে দেন। গত ৩১ আগস্ট (সোমবার) দুপুরে মাহবুব ওই কাগজপত্র নিয়ে বড়কাশিয়া-বিরামপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ভূমিকর দিতে যান। সেখানে কাগজপত্র যাচাইয়ের পর কর্মকর্তা বুঝতে পারেন এগুলো সম্পূর্ণ ভুয়া ও জাল।
​পরবর্তীতে ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা কৌশলে মাহবুবের মাধ্যমে ওয়াদুদকে ডেকে আনেন। সোমবার সন্ধ্যায় পৌরশহরের বসুন্ধরা এলাকা থেকে পুলিশ তাঁকে আটক করে।
আটকের পর সোমবার রাতেই সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম এ কাদের পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ১৮৬ ধারায় ওয়াদুদকে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। রায়ে উল্লেখ করা হয়—‘ভুয়া ডিসিআর ও খারিজ কপি দাখিলের মাধ্যমে সরকারি কার্য সম্পাদনে বাধা’ দেওয়ায় এই দণ্ড দেওয়া হয়েছে।
​আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, জাল দলিল প্রস্তুত করা এবং সরকারি ফি আত্মসাৎ করা একটি দণ্ডনীয় ফৌজদারি অপরাধ, যার জন্য নিয়মিত (রেগুলার) মামলায় দীর্ঘমেয়াদি শাস্তির বিধান রয়েছে। কিন্তু ভুয়া কাগজপত্র বানানোর অপরাধে মাত্র ১০ দিনের কারাদণ্ড দেওয়ায় অপরাধীকে একপ্রকার পার পাইয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।
​বড়কাশিয়া-বিরামপুর ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা মান্নু রায়হান আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, “আমি নিজে বাদী হয়ে থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করলে জালিয়াতের আরও কঠোর সাজা নিশ্চিত করা যেত।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম এ কাদের নিজের সিদ্ধান্তকে মেলানোর চেষ্টা করে বলেন, “ভুয়া নথি তৈরি করে আমার দাপ্তরিক কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে। মোবাইল কোর্টে সরাসরি জালিয়াতির বিচার করার আইনি সুযোগ নেই। তাই তাৎক্ষণিক শাস্তি নিশ্চিত করতেই সরকারি কাজে বাধার ধারা প্রয়োগ করেছি। নিয়মিত মামলা দিলে পুরো বিষয়টি আমার এক্তিয়ারের বাইরে চলে যেত।”
​তবে এসিল্যান্ডের এই ব্যাখ্যার সাথে দ্বিমত পোষণ করেছেন প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। নেত্রকোনার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ওয়াহিদুজ্জামান স্পষ্ট জানান, “জাল কাগজ তৈরির ঘটনার সঙ্গে ১৮৬ ধারায় ‘সরকারি কাজে বাধা’ দেওয়ার বিষয়টি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। প্রতারণা ও জালিয়াতির ঘটনায় এই ধারা প্রয়োগ করার সুযোগ নেই।”
​জাল নথি তৈরির মতো মারাত্মক অপরাধে কঠোর বিচার না হয়ে হালকা ধারায় নামকাওয়াস্তে সাজা দেওয়ায় পুরো প্রক্রিয়ার পেছনে কোনো বিশেষ কারসাজি রয়েছে কি না, তা নিয়ে স্থানীয় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ধর্মপাশায় অতর্কিত হামলা ও মালামাল লুট 

নেত্রকোনায় জালিয়াতি করে লঘুদণ্ড: এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে বিচার কারসাজির অভিযোগ

Update Time : ০৪:২১:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পলাশ পাল, নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে জমির ভুয়া নামজারি (খারিজ) কপি ও ডিসিআর রশিদ তৈরির মতো গুরুতর অপরাধে ওয়াদুদ মিয়া ওরফে বাবু (২৬) নামের এক যুবককে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। তবে জালিয়াতির সরাসরি প্রমাণ থাকার পরও মূল অপরাধ আড়াল করে ‘সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার’ হালকা ধারায় সাজা দেওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম এ কাদেরের ভূমিকা নিয়ে চরম বিতর্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
​সাজাপ্রাপ্ত ওয়াদুদ মিয়া মোহনগঞ্জ পৌরশহরের সাতুর এলাকার মৃত শাহজাহানের ছেলে। তিনি উপজেলা পরিষদ চত্বরে একটি কম্পিউটার দোকানের মাধ্যমে অনলাইনে বিভিন্ন সেবা দিতেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নাগডরা এলাকার বাসিন্দা মাহবুব মিয়া তার ৫ শতাংশ জমি নামজারির জন্য ওয়াদুদকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও টাকা দেন। চুক্তি অনুযায়ী ওয়াদুদ তাঁকে একটি প্রস্তুতকৃত নামজারি কপি ও ডিসিআর রশিদ বুঝিয়ে দেন। গত ৩১ আগস্ট (সোমবার) দুপুরে মাহবুব ওই কাগজপত্র নিয়ে বড়কাশিয়া-বিরামপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ভূমিকর দিতে যান। সেখানে কাগজপত্র যাচাইয়ের পর কর্মকর্তা বুঝতে পারেন এগুলো সম্পূর্ণ ভুয়া ও জাল।
​পরবর্তীতে ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা কৌশলে মাহবুবের মাধ্যমে ওয়াদুদকে ডেকে আনেন। সোমবার সন্ধ্যায় পৌরশহরের বসুন্ধরা এলাকা থেকে পুলিশ তাঁকে আটক করে।
আটকের পর সোমবার রাতেই সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম এ কাদের পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ১৮৬ ধারায় ওয়াদুদকে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। রায়ে উল্লেখ করা হয়—‘ভুয়া ডিসিআর ও খারিজ কপি দাখিলের মাধ্যমে সরকারি কার্য সম্পাদনে বাধা’ দেওয়ায় এই দণ্ড দেওয়া হয়েছে।
​আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, জাল দলিল প্রস্তুত করা এবং সরকারি ফি আত্মসাৎ করা একটি দণ্ডনীয় ফৌজদারি অপরাধ, যার জন্য নিয়মিত (রেগুলার) মামলায় দীর্ঘমেয়াদি শাস্তির বিধান রয়েছে। কিন্তু ভুয়া কাগজপত্র বানানোর অপরাধে মাত্র ১০ দিনের কারাদণ্ড দেওয়ায় অপরাধীকে একপ্রকার পার পাইয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।
​বড়কাশিয়া-বিরামপুর ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা মান্নু রায়হান আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, “আমি নিজে বাদী হয়ে থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করলে জালিয়াতের আরও কঠোর সাজা নিশ্চিত করা যেত।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম এ কাদের নিজের সিদ্ধান্তকে মেলানোর চেষ্টা করে বলেন, “ভুয়া নথি তৈরি করে আমার দাপ্তরিক কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে। মোবাইল কোর্টে সরাসরি জালিয়াতির বিচার করার আইনি সুযোগ নেই। তাই তাৎক্ষণিক শাস্তি নিশ্চিত করতেই সরকারি কাজে বাধার ধারা প্রয়োগ করেছি। নিয়মিত মামলা দিলে পুরো বিষয়টি আমার এক্তিয়ারের বাইরে চলে যেত।”
​তবে এসিল্যান্ডের এই ব্যাখ্যার সাথে দ্বিমত পোষণ করেছেন প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। নেত্রকোনার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ওয়াহিদুজ্জামান স্পষ্ট জানান, “জাল কাগজ তৈরির ঘটনার সঙ্গে ১৮৬ ধারায় ‘সরকারি কাজে বাধা’ দেওয়ার বিষয়টি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। প্রতারণা ও জালিয়াতির ঘটনায় এই ধারা প্রয়োগ করার সুযোগ নেই।”
​জাল নথি তৈরির মতো মারাত্মক অপরাধে কঠোর বিচার না হয়ে হালকা ধারায় নামকাওয়াস্তে সাজা দেওয়ায় পুরো প্রক্রিয়ার পেছনে কোনো বিশেষ কারসাজি রয়েছে কি না, তা নিয়ে স্থানীয় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।