বাংলাদেশ ০৫:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
fa fa-square র‍্যাব-৯ এর অভিযানে সিলেটের শাহপরাণ থেকে ৮৮২ বোতল (৪৫০.১১৫ লিটার) বিদেশী মদসহ ০২মাদক কারবারি গ্রেফতার fa fa-square শিক্ষার্থীদের পাশে নিয়ে বারহাট্টায় সচেতনামূলক মাদকবিরোধী ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত fa fa-square র‍্যাব-৯ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের যৌথ অভিযানে সিলেটের শাহপরাণে শব্দদূষণ বিধিমালা ও পরিবেশ সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘনের দায়ে ১০টি গাড়ির মালিককে জরিমানা fa fa-square গোদাগাড়ীর শীর্ষ ২০ মাদক কারবারি: কোটি টাকার সম্পদ ও বিলাসী জীবন fa fa-square গোয়াইনঘাটে মাদক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপের দাবিতে ইউএনও’র কাছে মাদকবিরোধী ঐক্য পরিষদের স্মারকলিপি fa fa-square গোয়াইনঘাটে সীমানা বিরোধের জেরে বিধবাকে মারধর, থানায় অভিযোগ fa fa-square রাতারগুল জনকল্যাণ ট্রাস্টের ২৯ সদস্যবিশিষ্ট দুই বছর মেয়াদি কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন fa fa-square সিলেটে মাদকবিরোধী র‍্যালি শেষে ছাত্রদল নেতার ওপর হামলা, রগ কাটার অভিযোগ fa fa-square বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি সিলেট মহানগর শাখার কমিটিতে এম এ রউফ, গোয়াইনঘাট উপজেলা পেশাজীবী পরিষদের অভিনন্দন fa fa-square ​নেত্রকোনায় নিজ ঘরে যুবককে গলা কেটে হত্যা

গোদাগাড়ীর শীর্ষ ২০ মাদক কারবারি: কোটি টাকার সম্পদ ও বিলাসী জীবন

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:০৮:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
  • ২৭ Time View


মোঃ মনোয়ার হোসেন,​রাজশাহী প্রতিনিধি:

রাজশাহীর সীমান্তবর্তী উপজেলা গোদাগাড়ীতে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েই চলেছে মাদক কারবার। স্থানীয়দের অভিযোগ, চিহ্নিত কিছু শীর্ষ কারবারির হাত ধরেই পুরো এলাকায় সিন্ডিকেট করে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে ফেনসিডিল, ইয়াবা ও প্রাণঘাতী হেরোইন। এই বিষাক্ত কারবারের মাধ্যমে রাতারাতি কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ, জমি, দামি গাড়ি ও বিলাসী জীবনযাপনের মালিক বনে গেছে এ চক্রটি।
​স্থানীয় সূত্র ও এলাকাবাসীর দেওয়া তথ্য মতে, এলাকায় সক্রিয় শীর্ষ ২০ মাদক কারবারির একটি চক্র গড়ে উঠেছে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—​মাদারপুর: জাহাঙ্গীর, নওসাদ আলী, টিপু, মনির, জহুরুল মেম্বার, ইব্রাহিম ও শামীম। ​জেলেপাড়া: তরিকুল।
​সরমংলা: মিজান, আদিল ও কাবা। ​সিএনবি মোড়: শীষ মোহাম্মদ। ​ফাজিলপুর: আনারুল ও বুলবুল। ​মাটিকাটা: সোহেল চেয়ারম্যান।
​রেলগেট: নয়ন ডাক্তার। ​মেডিকেল পূর্বপাড়া: দুরুল ও রাজা। ​মহিশালবাড়ী: মোফা কমিশনার ও কাজল। ​হলের মোড়: শরিফ উদ্দিন।
​অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ দিন ধরে অবাধে মাদক কারবার চালিয়ে আসা এই চক্রটি অর্জিত অবৈধ অর্থের বলে এলাকায় মারাত্মক প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে তারা নামে-বেনামে কিনেছে জমি ও আলিশান বাড়ি। তাদের ক্ষমতার দাপট ও অপতৎপরতায় স্থানীয় সাধারণ মানুষ ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পান না। মাদক চক্রের এই আগ্রাসনে সীমান্ত ঘেঁষা এলাকাটির যুবসমাজ আজ চরম ধ্বংসের মুখে পড়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন অভিভাবক ও এলাকাবাসী।
​নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন অধিবাসী জানান, “মাঝে মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে অভিযান চালানো হলেও মূল হোতা ও বড় কারবারিরা সব সময়ই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। গুটি কতক এই অপরাধীর কারণে পুরো গোদাগাড়ী এলাকার সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে।”
​মাদকের এই বিস্তার ও চক্রটির বিষয়ে জানতে চাইলে গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি ও নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তালিকায় থাকা ও জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। অপরাধী যে-ই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে এবং কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”
​এদিকে সীমান্ত জনপদ গোদাগাড়ীকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত সমন্বিত কঠোর অভিযান, বিশেষ নজরদারি ও সার্বিক জনসচেতনতা বাড়ানোর তীব্র দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

র‍্যাব-৯ এর অভিযানে সিলেটের শাহপরাণ থেকে ৮৮২ বোতল (৪৫০.১১৫ লিটার) বিদেশী মদসহ ০২মাদক কারবারি গ্রেফতার

গোদাগাড়ীর শীর্ষ ২০ মাদক কারবারি: কোটি টাকার সম্পদ ও বিলাসী জীবন

Update Time : ০৯:০৮:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬


মোঃ মনোয়ার হোসেন,​রাজশাহী প্রতিনিধি:

রাজশাহীর সীমান্তবর্তী উপজেলা গোদাগাড়ীতে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েই চলেছে মাদক কারবার। স্থানীয়দের অভিযোগ, চিহ্নিত কিছু শীর্ষ কারবারির হাত ধরেই পুরো এলাকায় সিন্ডিকেট করে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে ফেনসিডিল, ইয়াবা ও প্রাণঘাতী হেরোইন। এই বিষাক্ত কারবারের মাধ্যমে রাতারাতি কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ, জমি, দামি গাড়ি ও বিলাসী জীবনযাপনের মালিক বনে গেছে এ চক্রটি।
​স্থানীয় সূত্র ও এলাকাবাসীর দেওয়া তথ্য মতে, এলাকায় সক্রিয় শীর্ষ ২০ মাদক কারবারির একটি চক্র গড়ে উঠেছে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—​মাদারপুর: জাহাঙ্গীর, নওসাদ আলী, টিপু, মনির, জহুরুল মেম্বার, ইব্রাহিম ও শামীম। ​জেলেপাড়া: তরিকুল।
​সরমংলা: মিজান, আদিল ও কাবা। ​সিএনবি মোড়: শীষ মোহাম্মদ। ​ফাজিলপুর: আনারুল ও বুলবুল। ​মাটিকাটা: সোহেল চেয়ারম্যান।
​রেলগেট: নয়ন ডাক্তার। ​মেডিকেল পূর্বপাড়া: দুরুল ও রাজা। ​মহিশালবাড়ী: মোফা কমিশনার ও কাজল। ​হলের মোড়: শরিফ উদ্দিন।
​অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ দিন ধরে অবাধে মাদক কারবার চালিয়ে আসা এই চক্রটি অর্জিত অবৈধ অর্থের বলে এলাকায় মারাত্মক প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে তারা নামে-বেনামে কিনেছে জমি ও আলিশান বাড়ি। তাদের ক্ষমতার দাপট ও অপতৎপরতায় স্থানীয় সাধারণ মানুষ ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পান না। মাদক চক্রের এই আগ্রাসনে সীমান্ত ঘেঁষা এলাকাটির যুবসমাজ আজ চরম ধ্বংসের মুখে পড়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন অভিভাবক ও এলাকাবাসী।
​নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন অধিবাসী জানান, “মাঝে মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে অভিযান চালানো হলেও মূল হোতা ও বড় কারবারিরা সব সময়ই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। গুটি কতক এই অপরাধীর কারণে পুরো গোদাগাড়ী এলাকার সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে।”
​মাদকের এই বিস্তার ও চক্রটির বিষয়ে জানতে চাইলে গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি ও নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তালিকায় থাকা ও জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। অপরাধী যে-ই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে এবং কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”
​এদিকে সীমান্ত জনপদ গোদাগাড়ীকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত সমন্বিত কঠোর অভিযান, বিশেষ নজরদারি ও সার্বিক জনসচেতনতা বাড়ানোর তীব্র দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজ।