বাংলাদেশ ১২:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
fa fa-square গোয়াইনঘাটে সীমানা বিরোধের জেরে বিধবাকে মারধর, থানায় অভিযোগ fa fa-square রাতারগুল জনকল্যাণ ট্রাস্টের ২৯ সদস্যবিশিষ্ট দুই বছর মেয়াদি কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন fa fa-square সিলেটে মাদকবিরোধী র‍্যালি শেষে ছাত্রদল নেতার ওপর হামলা, রগ কাটার অভিযোগ fa fa-square বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি সিলেট মহানগর শাখার কমিটিতে এম এ রউফ, গোয়াইনঘাট উপজেলা পেশাজীবী পরিষদের অভিনন্দন fa fa-square ​নেত্রকোনায় নিজ ঘরে যুবককে গলা কেটে হত্যা fa fa-square মধ্যনগরের, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মজিদ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় চিরবিদায় fa fa-square বিছনাকান্দি ইউনিয়নে মাদকবিরোধী ঐক্য পরিষদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত fa fa-square নেত্রকোনা কেন্দুয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন মিজ্ সানজিদা চৌধুরী fa fa-square প্রবাসীদের মানবিক উদ্যোগে গোয়াইনঘাটে শতাধিক অসহায় পরিবারের মাঝে নতুন পোশাক ও অর্থ বিতরণ fa fa-square কার্ডের খেলা’ বন্ধ করে তরুণ ও যুবসমাজের জন্য প্রকৃত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার আহ্বান

মাজারের স্বচ্ছতা প্রশ্নে বিতর্ক: ইতিহাসের শিক্ষা নাকি স্বার্থের সংঘাত?

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:০৩:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
  • ৯৯ Time View

 

সিলেটের ঐতিহাসিক মাজারগুলোকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক প্রশাসনিক উদ্যোগ ও তা ঘিরে সৃষ্টি হওয়া বিতর্ক জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে মাজারের দান-অনুদান ব্যবস্থাপনা, হিসাব-নিকাশের স্বচ্ছতা এবং কথিত অনিয়মের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের পদক্ষেপ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

সমালোচকদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে কিছু প্রভাবশালী গোষ্ঠী মাজারকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। কোটি কোটি টাকার দান ও সিন্নীর অর্থ কোথায় এবং কীভাবে ব্যয় হয়, সে বিষয়ে সাধারণ মানুষের জানার সুযোগ সীমিত। ফলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার উদ্যোগকে তারা সময়োপযোগী বলে মনে করেন।

তাদের মতে, হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর আদর্শ ছিল তাওহিদ, ন্যায়বিচার ও মানবকল্যাণ প্রতিষ্ঠা। ইতিহাসে দেখা যায়, তিনি ও তাঁর সঙ্গীরা এই অঞ্চলে এসেছিলেন অত্যাচার ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে। তাই তাঁর নাম ব্যবহার করে কোনো ধরনের অনিয়ম, কুসংস্কার, মাদক বা ধর্মীয় অপব্যাখ্যার আশ্রয় নেওয়া তাঁর আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

ইতিহাসবিদদের বর্ণনায় উল্লেখ আছে, গৌড়ের শাসক গৌড়গোবিন্দের শাসনামলে বুরহান উদ্দিনের ওপর নির্যাতনের ঘটনাই পরবর্তীতে সিলেটে ইসলামের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করে। সেই ইতিহাস ন্যায় ও সত্যের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার শিক্ষা দেয় বলে অনেকে মনে করেন।

সচেতন মহলের প্রশ্ন, যদি কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে আর্থিক অনিয়ম, মাদক বা অন্য কোনো অসঙ্গতির অভিযোগ থাকে, তবে সেগুলোর তদন্ত ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা কি অপরাধ? নাকি এসব বিষয়ে কথা বললেই ধর্মীয় আবেগের প্রশ্ন তুলে সমালোচনাকে দমন করার চেষ্টা করা হবে?

তবে অপরদিকে অনেকের মতে, মাজার ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যকে ঘিরে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রশাসনের উচিত সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের মতামত গ্রহণ করা এবং ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা।

সিলেটবাসীর প্রত্যাশা, ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখে সেখানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। একইসঙ্গে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর প্রকৃত আদর্শ—ন্যায়, ইনসাফ ও মানবকল্যাণ—সমাজে আরও সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গোয়াইনঘাটে সীমানা বিরোধের জেরে বিধবাকে মারধর, থানায় অভিযোগ

মাজারের স্বচ্ছতা প্রশ্নে বিতর্ক: ইতিহাসের শিক্ষা নাকি স্বার্থের সংঘাত?

Update Time : ১১:০৩:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

 

সিলেটের ঐতিহাসিক মাজারগুলোকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক প্রশাসনিক উদ্যোগ ও তা ঘিরে সৃষ্টি হওয়া বিতর্ক জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে মাজারের দান-অনুদান ব্যবস্থাপনা, হিসাব-নিকাশের স্বচ্ছতা এবং কথিত অনিয়মের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের পদক্ষেপ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

সমালোচকদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে কিছু প্রভাবশালী গোষ্ঠী মাজারকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। কোটি কোটি টাকার দান ও সিন্নীর অর্থ কোথায় এবং কীভাবে ব্যয় হয়, সে বিষয়ে সাধারণ মানুষের জানার সুযোগ সীমিত। ফলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার উদ্যোগকে তারা সময়োপযোগী বলে মনে করেন।

তাদের মতে, হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর আদর্শ ছিল তাওহিদ, ন্যায়বিচার ও মানবকল্যাণ প্রতিষ্ঠা। ইতিহাসে দেখা যায়, তিনি ও তাঁর সঙ্গীরা এই অঞ্চলে এসেছিলেন অত্যাচার ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে। তাই তাঁর নাম ব্যবহার করে কোনো ধরনের অনিয়ম, কুসংস্কার, মাদক বা ধর্মীয় অপব্যাখ্যার আশ্রয় নেওয়া তাঁর আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

ইতিহাসবিদদের বর্ণনায় উল্লেখ আছে, গৌড়ের শাসক গৌড়গোবিন্দের শাসনামলে বুরহান উদ্দিনের ওপর নির্যাতনের ঘটনাই পরবর্তীতে সিলেটে ইসলামের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করে। সেই ইতিহাস ন্যায় ও সত্যের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার শিক্ষা দেয় বলে অনেকে মনে করেন।

সচেতন মহলের প্রশ্ন, যদি কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে আর্থিক অনিয়ম, মাদক বা অন্য কোনো অসঙ্গতির অভিযোগ থাকে, তবে সেগুলোর তদন্ত ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা কি অপরাধ? নাকি এসব বিষয়ে কথা বললেই ধর্মীয় আবেগের প্রশ্ন তুলে সমালোচনাকে দমন করার চেষ্টা করা হবে?

তবে অপরদিকে অনেকের মতে, মাজার ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যকে ঘিরে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রশাসনের উচিত সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের মতামত গ্রহণ করা এবং ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা।

সিলেটবাসীর প্রত্যাশা, ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখে সেখানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। একইসঙ্গে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর প্রকৃত আদর্শ—ন্যায়, ইনসাফ ও মানবকল্যাণ—সমাজে আরও সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে।