বাংলাদেশ ০৩:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
fa fa-square ধর্মপাশায় ফজলুল হক সেলবর্ষী স্মৃতি ফুটবল টুনামেন্টে – এমপি কামরুল  fa fa-square গোয়াইনঘাটে ইজারাবহির্ভূত ও ইসিএ ভুক্ত স্থান থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ fa fa-square খালিয়াজুরীতে হাওড়ের পানিতে ডুবে দুই শিশুর করুণ মৃত্যু fa fa-square ট্রলারের ইঞ্জিনে বোরকা-চুল পেঁচিয়ে বরযাত্রী নারীর মর্মান্তিক মৃত্যু: fa fa-square আসক’র সিলেট জেলা কমিটি গঠন সভাপতি রাজু, সম্পাদক আশরাফুল fa fa-square রূপগঞ্জে হোটেল মালিককে কুপিয়ে জখম fa fa-square ধর্মপাশায় পাইকুরাটি ইউনিয়ন বিএনপির দ্বী- বার্ষিক সম্মেলনে সভাপতি মোহাম্মাদ আলী, সাধারণ সম্পাদক জিয়া উদ্দিন জিয়া  fa fa-square ধর্মপাশায় ২ কোটি টাকার মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স অযত্নে, বঞ্চিত বীর মুক্তিযোদ্ধারা fa fa-square ফেরত এলো হাওড়ের ফসল রক্ষা বাঁধের ২,৬৪৪ ব্লক fa fa-square গোয়াইনঘাটে বিছনাকান্দি ইউপিতে সেবা পেতে ভোগান্তির অভিযোগ প্রশাসনিক কর্মকর্তার দেরিতে উপস্থিতি ও কর্মচারীর দুর্ব্যবহারের অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস ইউএনওর

মাজারের স্বচ্ছতা প্রশ্নে বিতর্ক: ইতিহাসের শিক্ষা নাকি স্বার্থের সংঘাত?

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:০৩:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
  • ১৭৮ Time View

 

সিলেটের ঐতিহাসিক মাজারগুলোকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক প্রশাসনিক উদ্যোগ ও তা ঘিরে সৃষ্টি হওয়া বিতর্ক জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে মাজারের দান-অনুদান ব্যবস্থাপনা, হিসাব-নিকাশের স্বচ্ছতা এবং কথিত অনিয়মের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের পদক্ষেপ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

সমালোচকদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে কিছু প্রভাবশালী গোষ্ঠী মাজারকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। কোটি কোটি টাকার দান ও সিন্নীর অর্থ কোথায় এবং কীভাবে ব্যয় হয়, সে বিষয়ে সাধারণ মানুষের জানার সুযোগ সীমিত। ফলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার উদ্যোগকে তারা সময়োপযোগী বলে মনে করেন।

তাদের মতে, হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর আদর্শ ছিল তাওহিদ, ন্যায়বিচার ও মানবকল্যাণ প্রতিষ্ঠা। ইতিহাসে দেখা যায়, তিনি ও তাঁর সঙ্গীরা এই অঞ্চলে এসেছিলেন অত্যাচার ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে। তাই তাঁর নাম ব্যবহার করে কোনো ধরনের অনিয়ম, কুসংস্কার, মাদক বা ধর্মীয় অপব্যাখ্যার আশ্রয় নেওয়া তাঁর আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

ইতিহাসবিদদের বর্ণনায় উল্লেখ আছে, গৌড়ের শাসক গৌড়গোবিন্দের শাসনামলে বুরহান উদ্দিনের ওপর নির্যাতনের ঘটনাই পরবর্তীতে সিলেটে ইসলামের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করে। সেই ইতিহাস ন্যায় ও সত্যের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার শিক্ষা দেয় বলে অনেকে মনে করেন।

সচেতন মহলের প্রশ্ন, যদি কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে আর্থিক অনিয়ম, মাদক বা অন্য কোনো অসঙ্গতির অভিযোগ থাকে, তবে সেগুলোর তদন্ত ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা কি অপরাধ? নাকি এসব বিষয়ে কথা বললেই ধর্মীয় আবেগের প্রশ্ন তুলে সমালোচনাকে দমন করার চেষ্টা করা হবে?

তবে অপরদিকে অনেকের মতে, মাজার ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যকে ঘিরে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রশাসনের উচিত সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের মতামত গ্রহণ করা এবং ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা।

সিলেটবাসীর প্রত্যাশা, ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখে সেখানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। একইসঙ্গে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর প্রকৃত আদর্শ—ন্যায়, ইনসাফ ও মানবকল্যাণ—সমাজে আরও সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ধর্মপাশায় ফজলুল হক সেলবর্ষী স্মৃতি ফুটবল টুনামেন্টে – এমপি কামরুল 

মাজারের স্বচ্ছতা প্রশ্নে বিতর্ক: ইতিহাসের শিক্ষা নাকি স্বার্থের সংঘাত?

Update Time : ১১:০৩:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

 

সিলেটের ঐতিহাসিক মাজারগুলোকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক প্রশাসনিক উদ্যোগ ও তা ঘিরে সৃষ্টি হওয়া বিতর্ক জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে মাজারের দান-অনুদান ব্যবস্থাপনা, হিসাব-নিকাশের স্বচ্ছতা এবং কথিত অনিয়মের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের পদক্ষেপ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

সমালোচকদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে কিছু প্রভাবশালী গোষ্ঠী মাজারকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। কোটি কোটি টাকার দান ও সিন্নীর অর্থ কোথায় এবং কীভাবে ব্যয় হয়, সে বিষয়ে সাধারণ মানুষের জানার সুযোগ সীমিত। ফলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার উদ্যোগকে তারা সময়োপযোগী বলে মনে করেন।

তাদের মতে, হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর আদর্শ ছিল তাওহিদ, ন্যায়বিচার ও মানবকল্যাণ প্রতিষ্ঠা। ইতিহাসে দেখা যায়, তিনি ও তাঁর সঙ্গীরা এই অঞ্চলে এসেছিলেন অত্যাচার ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে। তাই তাঁর নাম ব্যবহার করে কোনো ধরনের অনিয়ম, কুসংস্কার, মাদক বা ধর্মীয় অপব্যাখ্যার আশ্রয় নেওয়া তাঁর আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

ইতিহাসবিদদের বর্ণনায় উল্লেখ আছে, গৌড়ের শাসক গৌড়গোবিন্দের শাসনামলে বুরহান উদ্দিনের ওপর নির্যাতনের ঘটনাই পরবর্তীতে সিলেটে ইসলামের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করে। সেই ইতিহাস ন্যায় ও সত্যের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার শিক্ষা দেয় বলে অনেকে মনে করেন।

সচেতন মহলের প্রশ্ন, যদি কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে আর্থিক অনিয়ম, মাদক বা অন্য কোনো অসঙ্গতির অভিযোগ থাকে, তবে সেগুলোর তদন্ত ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা কি অপরাধ? নাকি এসব বিষয়ে কথা বললেই ধর্মীয় আবেগের প্রশ্ন তুলে সমালোচনাকে দমন করার চেষ্টা করা হবে?

তবে অপরদিকে অনেকের মতে, মাজার ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যকে ঘিরে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রশাসনের উচিত সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের মতামত গ্রহণ করা এবং ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা।

সিলেটবাসীর প্রত্যাশা, ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখে সেখানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। একইসঙ্গে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর প্রকৃত আদর্শ—ন্যায়, ইনসাফ ও মানবকল্যাণ—সমাজে আরও সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে।