বাংলাদেশ ০৬:৫১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
fa fa-square গোয়াইনঘাটের শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘পুসাগ’-এর নবীনবরণ, সংবর্ধনা ও স্মারকগ্রন্থ প্রকাশনা অনুষ্ঠিত fa fa-square নেত্রকোনায় ২২ লাখ টাকার ‘ফেয়ারডিল নিউ’সহ যুবক আটক fa fa-square ১৩নং বিছনাকান্দি ইউনিয়নে পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসাবে আলোচনায় আবু হানিফের। fa fa-square মধ্য জাফলংয়ে মাদকবিরোধী কমিটি গঠন, আহ্বায়ক সোহিন আহমেদ ও সদস্য সচিব শাহাদাত হোসেন fa fa-square বাংলাদেশ প্রেসক্লাব সিলেট মহানগর কমিটিতে গোয়াইনঘাটের ৫ সাংবাদিক বিলাল উদ্দিনসহ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পেলেন গোয়াইনঘাট অনলাইন প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ fa fa-square বাংলাদেশ প্রেসক্লাব সিলেট মহানগর কমিটির প্রচার সম্পাদক হলেন তরুণ সাংবাদিক মোঃ আল- আমিন fa fa-square গোয়াইনঘাটের১৩ নং বিছনাকান্দি ইউনিয়নে ঝারিখাল বে-সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উন্নয়নে বরাদ্দ চান এলাকাবাসী fa fa-square ৮নং তোয়াকুল ইউনিয়নের চারটি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন তোয়াকুল ইউনিয়ন পরিষদ সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী জিয়াউদ্দিন fa fa-square শারদীয় দুর্গাপূজায় গোয়াইনঘাটবাসীকে অনলাইন প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের শুভেচ্ছা fa fa-square সাংবাদিক আলিফ হত্যা: অপূর্ব গ্রেপ্তার, তাজুলকে ঘিরে তদন্তের দাবি

নেত্রকোনায় ইউপি সচিবের বিরুদ্ধে ১৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:২৭:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
  • ৬৮ Time View

(পলাশ পাল, নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি)
নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার লেংগুরা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) তহবিল থেকে ১৫ লাখ ১৪ হাজার টাকা আত্মসাৎ ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে পরিষদের সচিব মো. মজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে। চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর জাল করে ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা উত্তোলন এবং বিভিন্ন খাত থেকে আদায় করা রাজস্বের অর্থ ব্যাংকে জমা না দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় লেংগুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমান ভূঁইয়া কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের পর বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন সহায়তা তহবিল ও সাধারণ তহবিল থেকে চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর জাল করে মোট ৭ লাখ ৬৪ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এর মধ্যে ভ্যাট-ট্যাক্স বাবদ ৪ লাখ ৫৩ হাজার টাকা এবং সাধারণ তহবিল থেকে ৩ লাখ ১১ হাজার টাকা উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স ফি ও অন্যান্য খাত থেকে আদায় করা প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যাংক হিসাবে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে উল্লিখিত অর্থের পরিমাণ যোগ করলে মোট ১৫ লাখ ১৪ হাজার টাকা দাঁড়ায়। এসব লেনদেনের বিষয়ে ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও সংশ্লিষ্ট হিসাব পর্যালোচনার পর চেয়ারম্যানের নজরে বিষয়টি আসে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, দাপ্তরিক বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে পরিষদের আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে সচিবের ওপর নির্ভর করতে হতো। তাঁর অভিযোগ, এই সুযোগে তাঁর অজ্ঞাতে ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। সম্প্রতি ব্যাংক গত সেপ্টেম্বর ২০২৬ মাসের স্টেটমেন্ট হাতে পাওয়ার পর বিষয়টি তাঁর নজরে আসে। তিনি অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সচিব মো. মজিবুর রহমান চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে তাঁর কাছে কিছু টাকা থাকার কথা স্বীকার করে তিনি দাবি করেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দেওয়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ওই টাকা জমা দিয়েছেন। তবে তাঁর কাছে কত টাকা ছিল, কোন খাতের অর্থ ছিল এবং কত টাকা জমা দিয়েছেন—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি নথিপত্র দেখে পরে জানাবেন বলে জানান।
কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এন. এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, চেয়ারম্যানের লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর সচিবকে তলব করা হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে সচিবের কাছে কিছু টাকা থাকার বিষয়টি জানা গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে পরবর্তী প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অভিযোগটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে অভিযোগের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়ভাবে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা চূড়ান্তভাবে নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাব, ভাউচার, রসিদ, জমার স্লিপসহ পরিষদের আর্থিক নথিপত্র যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গোয়াইনঘাটের শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘পুসাগ’-এর নবীনবরণ, সংবর্ধনা ও স্মারকগ্রন্থ প্রকাশনা অনুষ্ঠিত

নেত্রকোনায় ইউপি সচিবের বিরুদ্ধে ১৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

Update Time : ০৯:২৭:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

(পলাশ পাল, নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি)
নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার লেংগুরা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) তহবিল থেকে ১৫ লাখ ১৪ হাজার টাকা আত্মসাৎ ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে পরিষদের সচিব মো. মজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে। চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর জাল করে ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা উত্তোলন এবং বিভিন্ন খাত থেকে আদায় করা রাজস্বের অর্থ ব্যাংকে জমা না দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় লেংগুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমান ভূঁইয়া কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের পর বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন সহায়তা তহবিল ও সাধারণ তহবিল থেকে চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর জাল করে মোট ৭ লাখ ৬৪ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এর মধ্যে ভ্যাট-ট্যাক্স বাবদ ৪ লাখ ৫৩ হাজার টাকা এবং সাধারণ তহবিল থেকে ৩ লাখ ১১ হাজার টাকা উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স ফি ও অন্যান্য খাত থেকে আদায় করা প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যাংক হিসাবে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে উল্লিখিত অর্থের পরিমাণ যোগ করলে মোট ১৫ লাখ ১৪ হাজার টাকা দাঁড়ায়। এসব লেনদেনের বিষয়ে ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও সংশ্লিষ্ট হিসাব পর্যালোচনার পর চেয়ারম্যানের নজরে বিষয়টি আসে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, দাপ্তরিক বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে পরিষদের আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে সচিবের ওপর নির্ভর করতে হতো। তাঁর অভিযোগ, এই সুযোগে তাঁর অজ্ঞাতে ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। সম্প্রতি ব্যাংক গত সেপ্টেম্বর ২০২৬ মাসের স্টেটমেন্ট হাতে পাওয়ার পর বিষয়টি তাঁর নজরে আসে। তিনি অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সচিব মো. মজিবুর রহমান চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে তাঁর কাছে কিছু টাকা থাকার কথা স্বীকার করে তিনি দাবি করেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দেওয়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ওই টাকা জমা দিয়েছেন। তবে তাঁর কাছে কত টাকা ছিল, কোন খাতের অর্থ ছিল এবং কত টাকা জমা দিয়েছেন—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি নথিপত্র দেখে পরে জানাবেন বলে জানান।
কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এন. এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, চেয়ারম্যানের লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর সচিবকে তলব করা হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে সচিবের কাছে কিছু টাকা থাকার বিষয়টি জানা গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে পরবর্তী প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অভিযোগটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে অভিযোগের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়ভাবে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা চূড়ান্তভাবে নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাব, ভাউচার, রসিদ, জমার স্লিপসহ পরিষদের আর্থিক নথিপত্র যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।