
জকিগঞ্জ প্রতিনিধি: গ্রাম আদালত সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সিলেটের জকিগঞ্জে একটি পরিচিতিমূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (১৪ জুন) জকিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রণয় বিশ্বাস, জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বিনয় ভূষণ দাস এবং উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা অলিউল হক।
কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ের প্রশিক্ষক দেলোয়ার হোসেন, জকিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক মুন্না, দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি শ্রীকান্ত পাল, জকিগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব লায়েকসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্পের জকিগঞ্জ উপজেলা কো-অর্ডিনেটর এ এম মুহিবুল হাছান।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, গ্রাম আদালত তৃণমূল পর্যায়ে সাধারণ মানুষের জন্য একটি কার্যকর বিচারব্যবস্থা। এর মাধ্যমে ছোটখাটো বিরোধ স্থানীয়ভাবে দ্রুত, সহজ ও স্বল্প ব্যয়ে নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়। ফলে আদালতের ওপর মামলার চাপ কমে এবং সাধারণ মানুষ দ্রুত ন্যায়বিচার লাভের সুযোগ পান। বিশেষ করে নারী, দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য গ্রাম আদালত সহজলভ্য বিচারসেবা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
বক্তারা আরও বলেন, গ্রাম আদালতের কার্যক্রম সম্পর্কে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতে জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এ সেবা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রচার-প্রচারণা বৃদ্ধি এবং জনসম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা গেলে তৃণমূল পর্যায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় গ্রাম আদালতের ভূমিকা আরও শক্তিশালী হবে।
কর্মশালায় গ্রাম আদালতের আইনগত কাঠামো, বিরোধ নিষ্পত্তির পদ্ধতি, সেবার পরিধি এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিভিন্ন কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা গ্রাম আদালতকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করার লক্ষ্যে বিভিন্ন মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরেন।
আলোচনায় জানানো হয়, গ্রাম আদালত আইন, ২০০৬ অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদে গঠিত গ্রাম আদালত সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা মূল্যমানের নির্দিষ্ট ফৌজদারি ও দেওয়ানি বিরোধ নিষ্পত্তি করতে পারে। অল্প সময়ে ও স্বল্প ব্যয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ থাকায় এটি সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং স্থানীয় পর্যায়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
Reporter Name 














