

বিল উত্তোলনের পরও টাকা না দেওয়ার অভিযোগ ঠিকাদারের বিরুদ্ধে; প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন
ডেস্ক রিপোর্ট :
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজে বড় ধরনের আর্থিক অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। মূল ঠিকাদার আব্দুস সালাম মোর্শেদের বিরুদ্ধে সাব-কন্ট্রাক্টরের প্রায় ৩৩ লাখ ৫২ হাজার ৪৮৫ টাকা বকেয়া না দেওয়ার অভিযোগে চরম বিপাকে পড়েছেন নির্মাণ শ্রমিকরা।
ভুক্তভোগী সাব-কন্ট্রাক্টর সুলতান আহমদ (পিতা- মৃত আব্দুল রাজ্জাক, গ্রাম- লেংগুড়া) জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সেন্দ গ্রামের আব্দুস সালাম মোর্শেদ তার মালিকানাধীন ‘মেসার্স আব্দুস সালাম’ ও ‘মেসার্স সিটি টেক ইন্টারন্যাশনাল’ প্রতিষ্ঠানের নামে গোয়াইনঘাট উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর ও কক্ষ নির্মাণের কাজ পান। পরবর্তীতে সুলতান আহমদ সাব-কন্ট্রাক্টর হিসেবে বরইতলা, সাতকুড়িকান্দি, হাকুর বাজার, নিয়াগুল ও নন্দিরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাজ শুরু করেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, কাজগুলোর প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ সম্পন্ন হলেও নির্ধারিত বিল পরিশোধে গড়িমসি শুরু করেন মূল ঠিকাদার। সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর থেকে বিল উত্তোলন করলেও সাব-কন্ট্রাক্টরের পাওনা পরিশোধ করা হয়নি। সর্বশেষ গত ১৬ মার্চ ২০২৬ তারিখে এনআরবিসি ব্যাংকের ৮ লাখ ৯৯ হাজার ৮৮৫ টাকার একটি চেক দেওয়া হলেও পরে জানা যায়, ওই টাকা আগেই উত্তোলন করা হয়েছে।
হিসাব অনুযায়ী, উল্লিখিত স্কুলগুলোর কাজ বাবদ ২৩ লাখ ৭৪ হাজার ৪৮৫ টাকা এবং আনুষঙ্গিক ব্যয় বাবদ আরও ৭৮ হাজার টাকা বকেয়া রয়েছে। এছাড়া বলেশ্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কক্ষ নির্মাণের ৯ লাখ টাকা বিল উত্তোলন করলেও সুলতান আহমদকে কোনো অর্থ দেওয়া হয়নি। সব মিলিয়ে তার পাওনা দাঁড়িয়েছে ৩৩ লাখ ৫২ হাজার ৪৮৫ টাকা।
সুলতান আহমদ বলেন, “আমি বর্তমানে চরম আর্থিক সংকটে আছি। শ্রমিকদের মজুরি ও নির্মাণ সামগ্রীর দাম পরিশোধ করতে পারছি না। বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না। মাঠে প্রায় ৫ লাখ টাকার মালামাল পড়ে আছে। আমি প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) হাসিব আহামদ বলেন, “সাব-কন্ট্রাক্টরের সঙ্গে আমাদের সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমরা মূল ঠিকাদার আব্দুস সালামকে বিল পরিশোধ করেছি। তবে বিষয়টি সমাধানের জন্য তাকে বারবার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে।”
অভিযুক্ত আব্দুস সালাম মোর্শেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে সরকারি উন্নয়ন কাজ মাঝপথে থমকে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভুক্তভোগীর পাওনা পরিশোধের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
Reporter Name 








