বাংলাদেশ ০৩:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
fa fa-square ধর্মপাশা সদর ইউনিয়ন কুড়ের পাড় বসত বিটা অন্যের কাছে বিক্রির অভিযোগ :: fa fa-square পূর্বধলায় এসিল্যান্ড কার্যালয়ে গ্রিল কেটে চুরি, নগদ টাকা ও ক্রেডিট কার্ড গায়েব fa fa-square রূপগঞ্জে চাঁদা দাবির অভিযোগ, আখখেত নষ্ট ও জমি দখলের হুমকি। fa fa-square ধর্মপাশায় ডোবায় বিষ প্রয়োগে মাছ নিধনের অভিযোগ, পথে বসার শঙ্কায় মাছচাষি:: fa fa-square পুসাগের নতুন কমিটি ঘোষণা, সভাপতি মোস্তাফিজুর ও সাধারণ সম্পাদক হানিফ fa fa-square রূপগঞ্জে মাদক বিক্রি-সেবনের দায়ে ১২ জনের কারাদণ্ড fa fa-square কেন্দুয়ায় বিয়ের প্রলোভনে তরুণীকে ডেকে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, প্রেমিকসহ আটক ৩ fa fa-square গোয়াইনঘাটের শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘পুসাগ’-এর নবীনবরণ, সংবর্ধনা ও স্মারকগ্রন্থ প্রকাশনা অনুষ্ঠিত fa fa-square নেত্রকোনায় ২২ লাখ টাকার ‘ফেয়ারডিল নিউ’সহ যুবক আটক fa fa-square ১৩নং বিছনাকান্দি ইউনিয়নে পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসাবে আলোচনায় আবু হানিফের।

গোয়াইনঘাটে কৃষিজমির মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়, প্রশাসনের নীরবতায় ফসলি জমি ধ্বংস

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:৪৮:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬
  • ২৫৭ Time View

বিশেষ প্রতিনিধি:
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার নন্দিরগাঁও ইউনিয়নে কৃষিজমির উর্বর মাটি কেটে ইটভাটায় সরবরাহ করার অভিযোগ উঠেছে। ভেকু (এক্সকাভেটর) দিয়ে ফসলি জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি (টপ সয়েল) কেটে নেওয়ায় কৃষিজমি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতায় এ অবৈধ কার্যক্রম প্রকাশ্যেই চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, নন্দিরগাঁও ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় দিন-রাত ভেকু দিয়ে কৃষিজমি খনন করে ট্রাক ও ট্রলির মাধ্যমে মাটি ইটভাটায় নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এভাবে ফসলি জমির মাটি কেটে নেওয়া হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়নটির অন্তত ১১টি ইটভাটায় কৃষিজমি থেকে কাটা মাটি মজুদ করা হয়েছে। বিশেষ করে সোনার বাংলা এলাকার সোনালী ব্রিক ফিল্ডে মাটির বিশাল স্তূপ তৈরি করা হয়েছে, যা দেখতে ছোটখাটো পাহাড়ের মতো।
এছাড়া সালুটিকর সড়ক সংলগ্ন রূপালী ব্রিক ফিল্ড, পূবালী ব্রিক ফিল্ড ও এফবিসি ব্রিক ফিল্ডসহ বিভিন্ন ভাটায় বিপুল পরিমাণ মাটির মজুদ দেখা গেছে।
গণমাধ্যমকর্মীরা সরেজমিনে সোনালী ব্রিক ফিল্ডে গিয়ে বিভিন্ন অনিয়মের চিত্র দেখতে পান। ভাটাটির মালিককে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে বলা হলেও এক সপ্তাহ অতিবাহিত হওয়ার পরও কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি বলে জানা গেছে।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, মিত্রি মহল এলাকায় অবস্থিত আদর্শ ব্রিক ফিল্ডসহ আশপাশের কয়েকটি ভাটায় মাটি সরবরাহের নেপথ্যে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, মিত্রি মহল গ্রামের বাসিন্দা আতাই মেম্বারের ছেলে ফরিদ আহমদের নেতৃত্বে হেলাল মিয়া ও নাছির মেম্বারসহ একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ মাটি ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে।
আদর্শ ব্রিক ফিল্ডের ম্যানেজার মাটি ক্রয়ের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন,
“ফরিদ ভাই আমাদের কাছে মাটি বিক্রি করেন। আমরা শুধু টাকা দিয়ে সেই মাটি কিনে থাকি।”
এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ওমর ফারুক বলেন, “কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা বিষয়টি পরিদর্শন করেছেন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হবে।”
তবে প্রশাসনের এমন আশ্বাসের পরও বাস্তবে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
স্থানীয় একাধিক কৃষক জানান, “ফসলি জমি আমাদের জীবিকার প্রধান উৎস। এভাবে জমির উর্বর মাটি কেটে নেওয়া হলে ভবিষ্যতে এই এলাকা মরুভূমিতে পরিণত হবে। আমরা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না।”
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী Arifur Haque Chowdhury এবং সিলেটের জেলা প্রশাসক Sarwar Alam-এর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ধর্মপাশা সদর ইউনিয়ন কুড়ের পাড় বসত বিটা অন্যের কাছে বিক্রির অভিযোগ ::

গোয়াইনঘাটে কৃষিজমির মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়, প্রশাসনের নীরবতায় ফসলি জমি ধ্বংস

Update Time : ০৭:৪৮:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

বিশেষ প্রতিনিধি:
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার নন্দিরগাঁও ইউনিয়নে কৃষিজমির উর্বর মাটি কেটে ইটভাটায় সরবরাহ করার অভিযোগ উঠেছে। ভেকু (এক্সকাভেটর) দিয়ে ফসলি জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি (টপ সয়েল) কেটে নেওয়ায় কৃষিজমি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতায় এ অবৈধ কার্যক্রম প্রকাশ্যেই চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, নন্দিরগাঁও ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় দিন-রাত ভেকু দিয়ে কৃষিজমি খনন করে ট্রাক ও ট্রলির মাধ্যমে মাটি ইটভাটায় নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এভাবে ফসলি জমির মাটি কেটে নেওয়া হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়নটির অন্তত ১১টি ইটভাটায় কৃষিজমি থেকে কাটা মাটি মজুদ করা হয়েছে। বিশেষ করে সোনার বাংলা এলাকার সোনালী ব্রিক ফিল্ডে মাটির বিশাল স্তূপ তৈরি করা হয়েছে, যা দেখতে ছোটখাটো পাহাড়ের মতো।
এছাড়া সালুটিকর সড়ক সংলগ্ন রূপালী ব্রিক ফিল্ড, পূবালী ব্রিক ফিল্ড ও এফবিসি ব্রিক ফিল্ডসহ বিভিন্ন ভাটায় বিপুল পরিমাণ মাটির মজুদ দেখা গেছে।
গণমাধ্যমকর্মীরা সরেজমিনে সোনালী ব্রিক ফিল্ডে গিয়ে বিভিন্ন অনিয়মের চিত্র দেখতে পান। ভাটাটির মালিককে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে বলা হলেও এক সপ্তাহ অতিবাহিত হওয়ার পরও কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি বলে জানা গেছে।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, মিত্রি মহল এলাকায় অবস্থিত আদর্শ ব্রিক ফিল্ডসহ আশপাশের কয়েকটি ভাটায় মাটি সরবরাহের নেপথ্যে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, মিত্রি মহল গ্রামের বাসিন্দা আতাই মেম্বারের ছেলে ফরিদ আহমদের নেতৃত্বে হেলাল মিয়া ও নাছির মেম্বারসহ একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ মাটি ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে।
আদর্শ ব্রিক ফিল্ডের ম্যানেজার মাটি ক্রয়ের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন,
“ফরিদ ভাই আমাদের কাছে মাটি বিক্রি করেন। আমরা শুধু টাকা দিয়ে সেই মাটি কিনে থাকি।”
এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ওমর ফারুক বলেন, “কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা বিষয়টি পরিদর্শন করেছেন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হবে।”
তবে প্রশাসনের এমন আশ্বাসের পরও বাস্তবে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
স্থানীয় একাধিক কৃষক জানান, “ফসলি জমি আমাদের জীবিকার প্রধান উৎস। এভাবে জমির উর্বর মাটি কেটে নেওয়া হলে ভবিষ্যতে এই এলাকা মরুভূমিতে পরিণত হবে। আমরা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না।”
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী Arifur Haque Chowdhury এবং সিলেটের জেলা প্রশাসক Sarwar Alam-এর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।