বাংলাদেশ ০৬:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
fa fa-square মোহনগঞ্জ হাসপাতালে জনবল ও সরঞ্জাম সংকটে সেবা ব্যাহত: চরম ভোগান্তিতে হাওরাঞ্চলের লাখো রোগী fa fa-square পূবালী ব্যাংকের সৌজন্যে নেত্রকোণা বিশ্ববিদ্যালয়ে গাড়ি হস্তান্তর, শিক্ষার্থীদের পরিবহণ সুবিধা সম্প্রসারণে নতুন সংযোজন fa fa-square জমি উদ্ধারসহ ৬ দফা দাবিতে কলমাকান্দায় শিক্ষার্থীদের ইউএনও কার্যালয় ঘেরাও fa fa-square ঢাকাউত্তর মোহাম্মদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির নির্বাচনে তিন শিক্ষকের মনোনয়ন সংগ্রহ fa fa-square আমড়া বিক্রি করে জীবিকা ও পড়ার খরচ জুগিয়ে নজর কাড়ছে ধর্মপাশার দুই শিশু fa fa-square ভোলাগঞ্জ সাদাপাথরে সিলেট সিটি অনলাইন প্রেসক্লাবের আনন্দ ভ্রমণ fa fa-square নেত্রকোনা শহীদ মিনারের প্রবেশপথে অবৈধ দোকান উচ্ছেদ, নির্মিত হবে নান্দনিক গেট fa fa-square চারটি ইউনিয়নের মানুষ —জলুরমুখ খেওয়াঘাটে দুর্ভোগে fa fa-square কলমাকান্দায় প্রস্তাবিত জোড়া সেতুর স্থান পরিদর্শনে প্রকল্প পরিচালক: দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস fa fa-square গুলশানে আওয়ামী লীগের মিছিল ঘিরে গ্রেপ্তার ৭২, রিমান্ডে ২৪

মোহনগঞ্জ হাসপাতালে জনবল ও সরঞ্জাম সংকটে সেবা ব্যাহত: চরম ভোগান্তিতে হাওরাঞ্চলের লাখো রোগী

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:২৩:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২৯ Time View

​পলাশ পাল, স্টাফ রিপোর্টার)
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ ১০০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মারাত্মক জনবল সংকট ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম অচল হয়ে পড়ায় চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ একাধিক পদ শূন্য থাকা এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাবে প্রতিদিন কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন নেত্রকোনা ও পার্শ্ববর্তী সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ।
​মোহনগঞ্জ ছাড়াও পার্শ্ববর্তী খালিয়াজুড়ী এবং সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা, মধ্যনগর, তাহিরপুর, জামালগঞ্জ ও শাল্লার আংশিক এলাকার বিপুলসংখ্যক রোগী প্রতিদিন সেবা নিতে এই হাসপাতালে আসেন। তবে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো থাকা সত্ত্বেও জনবল ও সরঞ্জাম সংকটে সেবা পেতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে তাদের।
​হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ১০০ শয্যার এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনুমোদিত ২১১টি পদের বিপরীতে বর্তমানে মাত্র ১১৮ জন কর্মী কর্মরত আছেন। বাকি ৯৩টি পদই দীর্ঘদিন ধরে শূন্য।
​জনবল সংকটের পাশাপাশি চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবহারের সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা। হাসপাতালে একটি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও কোনো চালক নেই। তিনটি ইসিজি মেশিনের মধ্যে দুটি অচল, আর সচল থাকা একটি মেশিন দিয়েও টেকনিশিয়ানের অভাবে নিয়মিত সেবা দেওয়া যাচ্ছে না। আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন থাকলেও সনোলজিস্ট নেই এবং এক্স-রে মেশিন সচল থাকলেও রেডিওগ্রাফার না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে এক্স-রে সেবা। এ ছাড়া প্যাথলজিতে রক্ত পরীক্ষার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও দক্ষ টেকনিশিয়ানের ঘাটতি রয়েছে।
​অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালে সুসজ্জিত অপারেশন থিয়েটার ও গাইনি চিকিৎসক থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র এনেসথেসিওলজিস্টের অভাবে সব ধরনের অস্ত্রোপচার বন্ধ রয়েছে। এর আগে সাবেক উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মাহমুদা খাতুনের সময়ে সিজারিয়ান অপারেশন চালু হলেও বর্তমানে তা পুরোপুরি বন্ধ। অপরদিকে, বিদ্যুৎ না থাকলে রোগীদের দুর্ভোগ চরমে ওঠে। জেনারেটর থাকলেও তা চালানোর কোনো লোক নেই, ফলে বিদ্যুৎ চলে গেলে তীব্র গরম ও পানির সংকটে ভোগেন রোগী ও তাদের স্বজনেরা। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুরোনো ভবনের সিসি ক্যামেরাগুলো দীর্ঘদিন ধরে অচল থাকায় হাসপাতাল প্রাঙ্গণ একপ্রকার নজরদারির বাইরে চলে গেছে।
​বর্তমানে হাসপাতালে জলাতঙ্ক ও বিষাক্ত প্রাণীর কামড়ের প্রতিষেধক টিকার তীব্র সংকট চলছে। সরকারি সরবরাহ শেষ হয়ে যাওয়ায় রোগীদের বাইরে থেকে চড়া দামে রেবিস ভ্যাকসিন কিনতে হচ্ছে। এমনকি স্থানীয় সংসদ সদস্যের দেওয়া বিশেষ বরাদ্দের টিকাও গত ৮ সেপ্টেম্বর শেষ হয়ে গেছে। এর ওপর বহির্বিভাগে চাহিদার তুলনায় ওষুধের সরবরাহ কম থাকায় খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে অনেক নিম্নবিত্ত রোগীকে।
​জরুরি বিভাগ থেকে শুরু করে বহির্বিভাগ পর্যন্ত সকাল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত রোগীদের প্রচণ্ড চাপ থাকলেও সীমিত জনবল নিয়েই চিকিৎসকদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
​সার্বিক বিষয়ে মোহনগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অলক কান্তি তালুকদার জানান, অনুমোদিত ২১১টি পদের বিপরীতে বিপুল সংখ্যক পদ শূন্য থাকায় স্বাভাবিক সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। হাওরাঞ্চলের বিপুল জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত সময়ে শূন্য পদে জনবল নিয়োগ এবং অচল যন্ত্রপাতিগুলো সচল করার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

মোহনগঞ্জ হাসপাতালে জনবল ও সরঞ্জাম সংকটে সেবা ব্যাহত: চরম ভোগান্তিতে হাওরাঞ্চলের লাখো রোগী

মোহনগঞ্জ হাসপাতালে জনবল ও সরঞ্জাম সংকটে সেবা ব্যাহত: চরম ভোগান্তিতে হাওরাঞ্চলের লাখো রোগী

Update Time : ০৪:২৩:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

​পলাশ পাল, স্টাফ রিপোর্টার)
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ ১০০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মারাত্মক জনবল সংকট ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম অচল হয়ে পড়ায় চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ একাধিক পদ শূন্য থাকা এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাবে প্রতিদিন কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন নেত্রকোনা ও পার্শ্ববর্তী সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ।
​মোহনগঞ্জ ছাড়াও পার্শ্ববর্তী খালিয়াজুড়ী এবং সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা, মধ্যনগর, তাহিরপুর, জামালগঞ্জ ও শাল্লার আংশিক এলাকার বিপুলসংখ্যক রোগী প্রতিদিন সেবা নিতে এই হাসপাতালে আসেন। তবে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো থাকা সত্ত্বেও জনবল ও সরঞ্জাম সংকটে সেবা পেতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে তাদের।
​হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ১০০ শয্যার এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনুমোদিত ২১১টি পদের বিপরীতে বর্তমানে মাত্র ১১৮ জন কর্মী কর্মরত আছেন। বাকি ৯৩টি পদই দীর্ঘদিন ধরে শূন্য।
​জনবল সংকটের পাশাপাশি চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবহারের সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা। হাসপাতালে একটি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও কোনো চালক নেই। তিনটি ইসিজি মেশিনের মধ্যে দুটি অচল, আর সচল থাকা একটি মেশিন দিয়েও টেকনিশিয়ানের অভাবে নিয়মিত সেবা দেওয়া যাচ্ছে না। আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন থাকলেও সনোলজিস্ট নেই এবং এক্স-রে মেশিন সচল থাকলেও রেডিওগ্রাফার না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে এক্স-রে সেবা। এ ছাড়া প্যাথলজিতে রক্ত পরীক্ষার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও দক্ষ টেকনিশিয়ানের ঘাটতি রয়েছে।
​অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালে সুসজ্জিত অপারেশন থিয়েটার ও গাইনি চিকিৎসক থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র এনেসথেসিওলজিস্টের অভাবে সব ধরনের অস্ত্রোপচার বন্ধ রয়েছে। এর আগে সাবেক উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মাহমুদা খাতুনের সময়ে সিজারিয়ান অপারেশন চালু হলেও বর্তমানে তা পুরোপুরি বন্ধ। অপরদিকে, বিদ্যুৎ না থাকলে রোগীদের দুর্ভোগ চরমে ওঠে। জেনারেটর থাকলেও তা চালানোর কোনো লোক নেই, ফলে বিদ্যুৎ চলে গেলে তীব্র গরম ও পানির সংকটে ভোগেন রোগী ও তাদের স্বজনেরা। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুরোনো ভবনের সিসি ক্যামেরাগুলো দীর্ঘদিন ধরে অচল থাকায় হাসপাতাল প্রাঙ্গণ একপ্রকার নজরদারির বাইরে চলে গেছে।
​বর্তমানে হাসপাতালে জলাতঙ্ক ও বিষাক্ত প্রাণীর কামড়ের প্রতিষেধক টিকার তীব্র সংকট চলছে। সরকারি সরবরাহ শেষ হয়ে যাওয়ায় রোগীদের বাইরে থেকে চড়া দামে রেবিস ভ্যাকসিন কিনতে হচ্ছে। এমনকি স্থানীয় সংসদ সদস্যের দেওয়া বিশেষ বরাদ্দের টিকাও গত ৮ সেপ্টেম্বর শেষ হয়ে গেছে। এর ওপর বহির্বিভাগে চাহিদার তুলনায় ওষুধের সরবরাহ কম থাকায় খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে অনেক নিম্নবিত্ত রোগীকে।
​জরুরি বিভাগ থেকে শুরু করে বহির্বিভাগ পর্যন্ত সকাল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত রোগীদের প্রচণ্ড চাপ থাকলেও সীমিত জনবল নিয়েই চিকিৎসকদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
​সার্বিক বিষয়ে মোহনগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অলক কান্তি তালুকদার জানান, অনুমোদিত ২১১টি পদের বিপরীতে বিপুল সংখ্যক পদ শূন্য থাকায় স্বাভাবিক সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। হাওরাঞ্চলের বিপুল জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত সময়ে শূন্য পদে জনবল নিয়োগ এবং অচল যন্ত্রপাতিগুলো সচল করার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।