মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
আপনি একজন রাষ্ট্রনায়কের সন্তান। আপনার পিতা ছিলেন একজন দেশপ্রেমিক ও সাহসী রাষ্ট্রনায়ক, আর আপনার মাতা ছিলেন আপোষহীন নেত্রী ও বাংলাদেশের তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী। তাঁদের আদর্শ ও সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আজ আপনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে অধিষ্ঠিত হয়েছেন।
আজ পুরো জাতি আপনার দিকে আশাবাদী দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। আমরা বিশ্বাস করি, আপনার নেতৃত্বেই দেশ সঠিক পথে এগিয়ে যাবে এবং জাতি তার কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে। তাই ভূমিকা দীর্ঘ না করে সরাসরি মূল বিষয়ে আসতে চাই।
সুশিক্ষা একটি জাতির মেরুদণ্ড। আর সেই শিক্ষাব্যবস্থাকে উন্নত ও অগ্রসর করার দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের জন্য আপনি একজন যোগ্য ব্যক্তিকে শিক্ষা মন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়েছেন—এতে দেশবাসীর মতো আমিও আশাবাদী হয়েছিলাম।
কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, সম্প্রতি এক সভায় শিক্ষা মন্ত্রী মহোদয় স্কুল ও কলেজের পরিচালনা কমিটির সভাপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে যে শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত ছিল, তা সম্পূর্ণভাবে বাতিল করার ঘোষণা দিয়েছেন।
এখানে একটি বড় প্রশ্ন তৈরি হয়—যেখানে একজন শিক্ষক দেশের সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হন, সেখানে সেই শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা দেবেন এমন একজন ব্যক্তি যার হয়তো কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাগত যোগ্যতাই নেই। এ ধরনের সিদ্ধান্ত শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য কতটা ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে—তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই জাতির মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
আপনিই আজ জাতির শেষ আশ্রয়স্থল। আপনার বিচক্ষণ ও দূরদর্শী সিদ্ধান্তই পারে এই জটিল সমীকরণ থেকে জাতিকে মুক্তি দিতে এবং শিক্ষাব্যবস্থাকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে।
সবশেষে আপনার সুস্বাস্থ্য, নেক হায়াত ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি। একই সাথে সাবেক রাষ্ট্রনায়ক ও আপোষহীন নেত্রীর রুহের মাগফেরাত কামনা করছি।
ইতি
এক নগণ্য কর্মী
বিলাল